ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার সমন্বিত কেন্দ্র বিএমইউ: ডা. রফিক

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০৭:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০৭:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন
​শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার সমন্বিত কেন্দ্র বিএমইউ: ডা. রফিক ​ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) পরিদর্শন করেছে চীনের ইউনান প্রদেশের প্রাদেশিক সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। একই সঙ্গে কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দলও বিএমইউ পরিদর্শন করে। তিন দিন ব্যাপি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সভা ও কর্মশালার অংশ হিসেবে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ দুই প্রতিনিধি দল বিএমইউ পরিদর্শন করে।

এ সময় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বক্তব্য রাখেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন। তিনি চীন-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যখাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের অর্জন ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে এবং এর মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ কিয়াং তাঁর বক্তব্যে কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারক দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই সহযোগিতার ক্ষেত্র ও পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। তিনি বাংলাদেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এবং দেশের সাম্প্রতিক চিকিৎসা অগ্রগতি নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা দেন।

উপস্থাপনায় তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং দেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জটিল ও জটিলতর রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীরা এখানে আসেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, ক্লিনিক্যাল গবেষণা এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম তাঁর উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে জটিল ও বিশেষায়িত রোগের চিকিৎসা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি, আধুনিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা ও পরিধি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। উন্নত সার্জিক্যাল পদ্ধতি, মাল্টিডিসিপ্লিনারি ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেয়ার, আধুনিক ইমিউনোসাপ্রেশন এবং অপারেশন-পূর্ব ও অপারেশন-পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির ফলে বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেবার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টের পাশাপাশি ইউরোলজিতে মিনিমালি ইনভেসিভ প্রোসিডিউর, এন্ডোইউরোলজি, ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি এবং আধুনিক সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষ জনবল তৈরি, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময় এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উপস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে পারস্পরিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম। বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট, আধুনিক সার্জিক্যাল প্রযুক্তি, চিকিৎসা গবেষণা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ সাইফুল ইসলাম।

বৈঠকে উভয় পক্ষই চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ